
শহীদ সাবেক রাষ্ট্রপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন ত্যাগী কর্মী শেখ গোলাম মোর্শেদ। তিনি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পেড়লী ইউনিয়ন বিএনপির একজন দীর্ঘদিনের নেতা ও কর্মী।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শেখ গোলাম মোর্শেদ। পেড়লী খানকাহ শরিফের সামনে চিত্রা নদীর তীরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজের রাজনৈতিক পথচলা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
গোলাম মোর্শেদ বলেন, “আমি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাই। ২০১৭ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলাম। সে সময় নড়াইল জেলা বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারি ও গণমানুষের নেতা বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের অনুপ্রেরণাও পেয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, “২০১৭ সালে আমি নিজে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন চাইনি। ওই সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু তারা কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন না। তখন কালিয়া উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি নজরুল সাহেব আমাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন। দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব মনে করে আমি সেই প্রস্তাবে রাজি হই।”
গোলাম মোর্শেদ আরও বলেন, “আমি জানতাম, ওই পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে জয়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিই। ওই নির্বাচনে আমি ১ হাজার ৭৭৯ ভোট পেয়েছিলাম। ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আমি জয়লাভ করি।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় নানা বাধার কারণে আমি সরাসরি রাস্তায় নেমে ভোট চাইতে পারিনি। তখন আমার ছেলে, পুত্রবধূ, দুই মেয়ে, স্ত্রী, ভাইপোসহ হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী আমার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন। আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।”
দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে সে সময়ের আহ্বানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নেতাকর্মীদের বলেছিলাম—তোমরা আমাকে বিজয়ী করার জন্য ধানের শীষে ভোট দিও, তবে প্রকাশ্যে এসো না; গোপনে ভোট দিও। আমার মতো আরও অনেক নেতাকর্মী সে সময় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির কঠিনতম সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন।”
আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে গোলাম মোর্শেদ বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হতে পারব।”
নিজের বয়সের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার বয়স এখন ৭৩ বছর। তাই জীবনের শেষ সময়ে আমাকে আরেকবার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়ে দেশ, দল ও এই জনপদের মানুষের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করছি। হয়তো আমার পক্ষে আর বেশি দিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সম্ভব হবে না। তাই শেষবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মানুষের খেদমত করতে চাই।”