
ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের লোহাগড়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় মামলার দুই আসামি শ্বশুর নাজিমুদ্দিন দেওয়ান ও শাশুড়ি ছইফুন নেছাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এর আগে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোসাঃ শাহানাজ আক্তার (১৯) বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৮/ তারিখ ৮/১০/২০২৬
মামলার আসামিরা হলেন— মো. সৌরভ দেওয়ান (২৬), নাজিমুদ্দিন দেওয়ান (৫০), মোছাঃ ছইফুন নেছা (৪৫) এবং সজল দেওয়ান (২০)। তারা সবাই লোহাগড়া থানার মদিনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে মদিনাপাড়ার নাজিমুদ্দিন দেওয়ানের ছেলে সৌরভ দেওয়ানের সাথে শাহানাজ আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য শাহানাজের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সুখের কথা চিন্তা করে শাহানাজের পরিবার বিভিন্ন সময়ে আসামিদের নগদ ৮,০০,০০০ (আট লক্ষ) টাকা যৌতুক প্রদান করে। তবে এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি এবং আরও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে জোরপূর্বক শাহানাজ ও তার বাবার কাছ থেকে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং একটি ফাঁকা ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেলে আসামিরা আবারও ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা যৌতুক দাবি করে। শাহানাজ তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী সৌরভ দেওয়ানসহ অন্য আসামিরা লাঠি, লোহার রড ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। মারধরের একপর্যায়ে শাহানাজ মাটিতে পড়ে গেলে প্রধান আসামি সৌরভ তার গলা চিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং সজল দেওয়ান তার পরিহিত কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এছাড়া ছইফুন নেছা শাহানাজের গলা থেকে আনুমানিক ১,৯৫,০০০ টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর শাহানাজের ব্যবহৃত ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে তার বাবা-মা লোহাগড়া থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার দাপ্তরিক নোটে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১(গ)/৩০ ধারা এবং পেনাল কোডের ৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে (মামলা নং ০৮, তারিখ: ০৮/১০/২০২৬)। পুলিশ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।