শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
Title :
কালিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, শ্রেণী শিক্ষকের দায়িত্বে দপ্তরী! কালিয়ায় হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত নড়াইলে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন টুকটুকি বড়দিয়া বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কাছ থেকে দেখা ডাঃ কামরুল ইসলাম মরার পরে খাড়ার ঘা- মূল্য বৃদ্ধি হলেও কালিয়ায় বন্ধ হয়নি অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি, দিশেহারা সাধারণ মানুষ! নড়াইলে ফুটবল খেলার নামে চলে অনুমতিবিহীন ‘র‍্যাফেল ড্র’ কালিয়ার ইলিয়াসাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে গাজী আবুল হাসান আলোচনার শীর্ষে নড়াগাতীতে বর্গা চাষীর পিটুনিতে মালিক পক্ষ আহত, থানায় মামলা দায়ের কালিয়ায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

চাদাঁ না দেওয়ায় সাজানো মানববন্ধন করে হয়রানি অভিযোগ।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০০ Time View

নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মোচড়া গ্রামে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সাজানো মানববন্ধন করে কৃষি উদ্যোক্তাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিগত ২৬ জানুয়ারি বহিরাগত কিছু ভাড়াটিয়া লোক এনে রফিক শেখের বিরুদ্ধে মোচড়া বিলে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে তারা বলেন, ভুমি দস্যু রফিক শেখ রিসোর্ট ও মাছের ঘের নির্মানের অজুহাতে মোচড়া বিলের তিন ফসলি কৃষি জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে মাটি ভরাট, বাঁধ নির্মান ও মাছের ঘের খনন করছেন বলে জানান।

এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে সাংবাদিকদের একটি সংগঠিত টিম। সরেজমিনে গিয়ে পান তারা ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে গোপনে এবং প্রকাশ্যে খোঁজখবর নেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় বেকার যুবক রাজু নিজের কোন পরিচয় দেওয়ায় মত কোন কর্ম না থাকায় বেছে নিয়েছেন অন্যের ক্ষতি সাধন করা কাজ। ধনী ও সম্মানিত লোকদের মূল নিশানা করে ফাঁদে ফেলানোর চেষ্টা করেন রাজু ও ইট ভাটার মান্নান।

সম্প্রতি এই মইনুল হাসান রাজু রফিক শেখের নিকট চাঁদা দাবি করেন। এবং ইটভাটা মালিক মান্নান তার কাছে মাটি দাবি করেন। মাটি আর টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় রাজু আর মান্নান। ইটভাটার প্রবেশপথে দোতলা ঘরে বসে কৃষি উদ্যোক্তা রফিক শেখ কে ফাঁসাতে দুই দফা নীল নকশা চলে। বাজেট করা হয় মোটা টাকার৷ ভিন্ন গ্রাম হতে লোক ভাড়া করে ওই মানববন্ধনের আয়োজন করেন তারা। মানববন্ধনে রফিক ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে মান্নান ও রাজু সম্মানহানির বক্তব্য দেন। যে সব বক্তব্যের কোনো সত্যতা পায় না অনুসন্ধান টিম।
মানববন্ধনে উপস্থিত থাকা আনোয়ারের ছেলে নয়ন বলেন, আমি মাঠে ধান লাগতে গিয়েছিলাম তখন মানববন্ধনকারীরা আমাকে জোরপূর্বক ব্যানার ধরিয়ে দিয়ে রফিক এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বলে। আমি তাদের ভয়ে বক্তব্য দিই।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, রফিক ভাইয়ের প্রকল্পের সাথে আমার বাড়ি। আমার বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা ছিল না। রফিক ভাই আমাদের তার জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা দিয়েছেন। সে খুব ভালো মনের মানুষ। তার সম্মান নষ্ট করার জন্য তাকে নিয়ে এহেন মানববন্ধন করেছেন।

মাঠে চাষাবাদ করা এক কৃষকের সাথে কথা হয় তিনি বলেন, আমি একজন কৃষক মানুষ। আমি চাষাবাদ করে খাই। আমার এই মাঠে চাষাবাদে কোন সমস্যা হয় না। এমনকি এই মাঠের কোন চাষির সমস্যা হয় না। বরং মান্নানের ইট ভাটার কারণে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ইট ভাটার কালো ধোয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বসবাস করতে পারছে না। শিশুদের শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। মান্নানের বক্তব্য যেন ভূতের মুখে রাম নাম।

রফিক শেখ এর বড় ভাই সাঈদ বলেন,আমার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম। মান্নান মোল্যা ইটের ভাটার জন্য আমাদের ফসলি জমির মাটি চেয়েছিল। আমরা তাদের কাছে মাটি বিক্রি না করায় বহিরাগত লোক ভাড়া করে এনে আমার ভাই রফিক এর নামে অহেতুক মিথ্যা হয়রানি মূলোক অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমাদের কৃষি প্রকল্পে সম্বনিত ভাবে মাছ ও সবজি চাষ হয়।যা থেকে এলাকার বেকার যুবক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই কৃষি প্রকল্প ধংস করার জন্য ইটভাটা মালিক মান্নান কৃষি প্রকল্পকে রিসোর্ট দাবি করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। রফিক শেখ এর প্রজেক্টের নাম প্রাইড এগ্রো কম্বাইন্ড ফার্ম।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষি উদ্যোক্তা রফিক শেখ বলেন,
আমি লিগ্যাল ভাবে জমি ক্রয় করে লিজ নিয়ে প্রাইড এগ্রো কম্বাইন্ড ফার্ম নামের প্রজেক্ট শুরু করি।
আমার গ্রামের রাজু নামের ছেলেটি আমার কাছে চাঁদা দাবি করে, আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাইএবং একই এলাকার আগুন ইট ভাটা মালিক মান্নান আমার কাছে মাটি চাই তাকেও না দেওয়ায় ষড়যন্ত্রমুলক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানিকর মানববন্ধন করে।
রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, তারা আমাকে ভুমি দস্যু বলছে আমি কার জমি দখল করেছি? আমার একটা কৃষি প্রকল্প। মুখে অনেকে অনেক কিছু বলবে। দিন শেষে প্রমান দরকার।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটা মালিক মান্নান বলেন, রফিকুল ইসলাম এত বড় ঘের করার টাকা পেল কই। সে জমি কিনে মাছের ঘের করছে। এতে তিন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তবে মান্নানের ইট ভাটায় গিয়ে দেখা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাব কাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন।
মইনুল হাসান রাজুর সাথে যোগাযোগ করতে তার ব্যবহৃত ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin