
ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইল–১ আসনে এবারের নির্বাচন ক্রমশঃ জটিল সমীকরণে রূপ নিচ্ছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একই রাজনৈতিক ধারার তিন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এখনো নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকায় ধানের শীষের ভোট বিভক্তির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
নড়াইল–১ আসনের ১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে চার প্রার্থীর আলাদা প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে , ফলে বিএনপির ভোট এককভাবে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে না গিয়ে চার ভাগে বিভক্তির আশংকায় শঙ্কিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিএনপি ঘরানার এস. এম. সাজ্জাদ হোসেন ফুটবল প্রতীক, বি. এম. নাগিব হোসেন কলস প্রতীক এবং সুখেশ সাহা আনন্দ ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠ কাঁপাচ্ছেন । এতে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকে বিভক্তি অনিবার্য হওয়ায় জামায়েত ইসলামীর একক প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ কায়সার আছেন খোশ মেজাজে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদ্রোহী তিন প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক ইতিহাস তাদের নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করালেও অল্প ব্যবধানে হলেও শেষ হাসিটা ধানের শীষের প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমই হাসবেন। তবে পঁচা শামুকে পা কাটার আশংকাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনিরুল ইসলাম বলেন, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট, আর এই বিভাজন সরাসরি জামায়াতকে সুবিধা দিতে পারে। জামায়াতের প্রার্থী মোঃ ওবায়দুল্লাহ কায়সার দশ দলিও জোটের একক প্রার্থী এবং সংগঠিত ভোটব্যাংক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে তাদের বিজয় সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।”
স্থানীয় একাধিক ভোটারেরা বলেন, “ধানের শীষের ভোট যদি এক জায়গায় থাকত, লড়াইটা অন্যরকম হতো। এখন চার প্রার্থীর কারণে সেই ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় জামায়াতই লাভবান হবে।”
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চার প্রার্থীর সক্রিয়তা এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে, কারণ প্রতিটি বিদ্রোহী প্রার্থী তার নিজ এলাকায় ভোটব্যাংক শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, নড়াইল–১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ ততই জটিল হয়ে উঠছে। নির্ধারিত সময়ই বলে দিবে শেষ হাসিটা কে হাসবে।