বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
Title :
নড়াইলের বড়দিয়া হাইস্কুল মার্কেটে হোটেল অপসারণের নির্দেশ দিলেন ইউএনও লোহাগড়া। কালিয়ায় ১৪৪ ধারা চলাকালে ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলোড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আলোচনায় রবিউল ইসলাম রবি বিশ্বাস কালিয়ায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ তিনজন আটক নড়াইলে জামাত নেতার কয়লা ভাটার তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশী কালিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে চার জনের জেল ও জরিমানা লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ বাংলাদেশির মানবিক প্রত্যাবাসন কালিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, যশোরে গেলেন ৪৫ রোগী কালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নানা দাবিতে নড়াইলে সিপিবির গণতন্ত্র অভিযাত্রা কর্মসূচি পালিত।

ডেস্ক নিউজঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ২২৮ Time View

ডেস্ক নিউজঃ

দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ, জনমালের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব-দুর্নীতি বন্ধ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ‘গণতন্ত্র অভিযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দেশব্যাপী সিপিবির ‘গণতন্ত্র অভিযাত্রা’র শেষ দিনে আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার নড়াগাতী থানার খাশিয়াল বাজার থেকে বড়দিয়া বাজার পর্যন্ত পদযাত্রা ও গণসংযোগ করে সিপিবি।

বড়দিয়া শাখার আয়োজনে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন, নড়াইল জেলা সভাপতি ও খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন রায়, হকার্স ইউনিয়নের নেতা সেকেন্দার হায়াত, সিপিবি বড়দিয়া শাখার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শিমুল, নড়াইল জেলা শাখার সদস্য সঞ্জিত রাজবংশী, প্রবীর রায়, শেখ সুলতান ও আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতন ঘটার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী চেতনার উন্মেষ ঘটেছে। বিগত সরকারের শাসনামলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গিয়েছিল। বেকারত্ব বেড়ে চলেছিল । এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। উপরন্তু কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ফসলের প্রকৃত দাম পাচ্ছে না। মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষিত হয়নি। দীর্ঘদিনের দাবি সার্বজনীন রেশন ব্যবস্থা ও ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু হয়নি। অন্যদিকে ভ্যাট বৃদ্ধির নামে আরেক দফা নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। শুধু মূল্যবৃদ্ধি রোধ নয় সারা দেশে সব মানুষের জানমালের নিরাপত্তাও এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও পাল্টা দখলদারিত্ব চলছে বিভিন্ন জায়গায়।

বি এম বরকত উল্লাহ বলেন, অসহনীয় নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যদিয়ে বিগত স্বৈরাচার শাসক শেখ হাসিনা সরকার দেশের জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিল। ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ সংগ্রাম করতে গিয়ে মানুষ গুম-খুন হয়েছে। বৈসম্যবিরোধী ছাত্র- আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের বিদায় হলো। কিন্তু আমরা দেখছি, নতুন করে বৈষম্যবাদের সৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ি জম্মু জাতির ওপর হামলা হয়েছে। মাজারের ওপর হামলা হয়, তার কোনো বিচার হয় না। মন্দিরে হামলা হয়, জোরালো কোনো ব্যবস্থা হয় না।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে কথা বলায় তিনজন খুন হয়েছে। গতকাল শাহবাগে এবতেদায়ি শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়েছে৷ এই হামলা অনৈতিক-অন্যায্য। পুলিশের সেই ফ্যাসিস্ট আবচারণ রয়ে গেছে। মানুষ তাঁর দাবি-দাওয়ার কথা বলতে গেলে, গণতন্ত্রের কথা বলতে গেলে এখনও আগের মত তাঁদের ওপর হামলে পড়ছে। তাই মূল প্রয়োজন হচ্ছে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করা।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের অভ্যন্তরে নানা সংকট এবং সরকার সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ না করায় দেশি-বিদেশি নানা অপশক্তি অপতৎপরতার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করারও দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এসব ঘটনাবলি চলতে থাকলে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা যাবে না। আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছি, চলতি ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সাধারণ মেহনতি-শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে নীতিমালা গ্রহণ করা ছাড়া সাধারণ মানুষকে বর্তমান দুর্দশা থেকে মুক্ত করা যাবে না।

সিপিবির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন বলেন, জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিলো, তা কেন পূরণ হচ্ছে না, আমাদের বুঝতে হবে। স্বৈরাচারের পতন হলেই আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না। যদি না আমরা সেই ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটাতে না পারি। তাহলে আমাদের শ্রমজীবি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কখনো পূরণ হবে না। তাই ফ্যাসিস্ট শাসনকেই আমাদের উপড়ে ফেলতে হবে। না হলে নতুন নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে।

দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময় পরপর তিনটি নির্বাচনে দেশবাসী ভোট দিতে পারেনি । এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে । আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা জরুরি এর মধ্য দিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটি করতে পারব । এছাড়া এই সময়ে আলোচনা ও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করার কার্যক্রমও শুরু করা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin