
(প্রতিনিধি)
রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের জামান শফিকের ছেলে আওলাদ হোসেন মুসা ও একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মোজাম্মেল হক খোকার ছেলে আবু জাফর সিদ্দিক তারেক(৩৩) এর বাড়িতে শোকের মাতম নেমে এসেছে।
স্বজনরা জানান, সবে মাত্র ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স শেষ করেছে আবু জাফর সিদ্দিক তারেক। দুই ভাই ও এক বোনের বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলো সে। অপর নিহত আওলাদ হোসেন মুসা সে পেশায় একজন ফার্মেসি ও হোটেল ব্যবসায়ী ছিলো। মাত্র ৮ মাস আগে বিয়ে করেছিল আওলাদ। তিন ভাইও তিন বোনের মধ্যে আওলাদ হোসেন মুসা তৃতীয় ছিল।
কোনো সান্ত্বনাই থামাতে পারছে না নিহতের মা-বাবা ও স্বজনের কান্না। সন্তানকে নিয়েই সাজানো ছিল যে মায়ের, পৃথিবী এক নিমিষেই তা যেন এলোমেলো হয়ে গেল। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
নিহত আবু জাফর সিদ্দিক তারেকের খালাতো বোন ফারহানা আক্তার এ্যনি বলেন, নিহত আওলাদ হোসেন মুসা অপর নিহত আবু জাফর সিদ্দিক তারেক তারা দুজনে চাচাতো ভাই। ঘটনার দিন মঙ্গলবার চাচাতো ভাই আবু জাফর সিদ্দিক তারেকের সাথে সেনেটারী সামগ্রী কিনতে ঢাকায় গিয়েছিলেন আওলাদ হোসেন মুসা। পরে ক্যাফে কুইন রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ সময় বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আবু জাফর সিদ্দিক তারেক। গুরুতর আহত হন আওলাদ হোসেন মুসা। শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি ছিলেন। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওলাদ হোসেন মুসা মারা যায়।
তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিহতের লাশ নিয়ে আসা হয় তার নিজ বাড়ি বালুয়াকান্দি গ্রামে। সকাল ৯ টায় বালুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে নিহতের লাশ তার নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় আবু জাফর সিদ্দিক তারেক কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, গেল মঙ্গলবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে গুলিস্তানে বিআরটিসির বাস কাউন্টারের কাছে সিদ্দিকবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাশাপাশি দুটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।