
🍥 অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা,
🍥 শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ
🍥 ম্যানজিং কমিটি না থাকা অনিয়মিত হাজিরা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
🍥 আলিম পরীক্ষার ২ জন পাস, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
🍥 সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে চলছে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষজুড়ে ধুলাবালি ও ময়লার স্তূপ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন এবং কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দুজন উত্তীর্ণ হওয়ায় মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবক মহলে।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর ব্যস্ততায় নির্ধারিত সময়ে মাদ্রাসায় উপস্থিত না হয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এমনকি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তৈয়েব এর বিরুদ্ধেও মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিং বানিজ্যে এবং ৩০০ টাকা করে শিক্ষার্থী প্রতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নবম শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থী টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শ্রেণি কক্ষে আবর্জনা ও ধুলাবালির থাকার বিষয়ে মাদ্রাসার আয়া মোসাঃ সুলতানা বেগমকে প্রশ্ন করলে তার ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তেয়েব শ্রেণিকক্ষে সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রাইভেট পড়ান। এ কারণে ওই সময়ে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না বলে জানান এবং বাকি শ্রেনি কক্ষের একই অবস্থা কেন? এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যে শ্রেনি কক্ষে প্রাইভেট পড়ান সেটা ১৪ দিন পরে ঝাড়ু দিচ্ছেন বলে জানান সুলতানা।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গেলে এ সকল চিত্র উঠে আসে। চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চললেও শতভাগ সম্পন্ন হওয়া নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার ছয়টি রুম শ্রেণিকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শৌচাগার ও কক্ষগুলোর মেঝে ও বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা স্তুপে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার প্রমান মেলে। এমন পরিবেশেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছয়জন। এতসংখ্যক জনবল থাকার পরও শ্রেণিকক্ষের এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তাঁদের অভিযোগ, সঠিক তদারকি ও জবাবদিহির অভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা বাড়ছে।
শিক্ষার মানের অবনতির বিষয়টি সামনে এসেছে ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় ২৭ জনের স্থলে মাত্র ০২ জন পাস করায়।
এত কমসংখ্যক শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তৈয়েব শ্রেণিকক্ষের ময়লা-আবর্জনার জন্য চারতলা ভবনের নির্মাণকাজকে দায়ী করলেও তা যুক্তিসঙ্গত প্রতিয়মান হয়নি। তবে আয়া মোসাঃ সুলতানার বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় অধ্যক্ষের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও অধ্যক্ষ সেটিকে অতিরিক্ত ক্লাসের ফি হিসেবে উল্লেখ করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।