
ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের কেউ স্বর্ণকার, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউবা মাটিকাটা শ্রমিক। এসব পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করে বেড়ায় তারা। নিজেদের বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ডাকাতি করে থাকে। এদের নামে নড়াইল, যশোর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট থানায় একাধিক চুরি এবং ডাকাতি মামলা রয়েছে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিনের টানা অভিযানে বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণাংকারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
এরা হলো-খুলনার তেরখাদা থানার নলীয়ারচর মধ্যপাড়ার জলিল মোল্লার ছেলে রাজমিস্ত্রী জাকির মোল্লা জেকের আলী (৪৮), একই গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে মাটিকাটা শ্রমিক দীন ইসলাম মোল্লা (৪২), একই জেলার রুপসা থানার আইচগাতি কামারপাড়া ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ভূষণ করের ছেলে স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫), নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া তালুকদারপাড়ার সামছুল হক তালুকদারের ছেলে শ্রমিক জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া থানার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামের আইয়ুব আলী মৃধার ছেলে শ্রমিক পারভেজ মৃধা দারোগা (৩৬) এবং বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের সিয়ার উদ্দিন খাঁর ছেলে রাজমিস্ত্রি মফিজ খাঁ (৩৮)।
গত ৮ জুন রাত ২টার দিকে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা মধ্যপাড়ার সালাহউদ্দীন খানের ঘরে প্রবেশ করে দেশি ধারালো অস্ত্রের মুখে তার দুই হাত পেছনে বেঁধে ফেলে হত্যার ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা আলমারির তালা খুলে টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুন্ঠন করে সালাহউদ্দিন এবং তার ছেলে আশিকুর রহমানকে গামছা দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় সালাহউদ্দীন খান বাদী হয়ে নড়াগাতী থানায় ডাকাতি মামলার দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে গত তিনদিন ধরে নড়াইল, গোপালগঞ্জ এবং খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ডাকাত এবং ডাকাতির করা মালামাল ক্রেতা একজনকে গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গলিত লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে- জাকির মোল্লা জেকের আলীর নামে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং তিনটি চুরির মামলা রয়েছে। পারভেজ মৃধা দারোগার নামে খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা, জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পার নামে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনাতে তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরি, মফিজ খার নামে নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং একটি চুরি মামলা রয়েছে।