
ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলে চাঞ্জল্যকর ভ্যানচালক মোঃ আমিনুর ওরফে আলিপ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করে মোঃ মিনারুল বিশ্বাস (২২), ও হৃদয় মোল্যা নামে দুই আসামিকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। এ সময় আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর (সোমবার) আমিনুরের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-০৭।
এর আগে গত ০৩ অক্টোবর অনুমান সকাল ৮ টার দিকে আমিনুর তার ইজি ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বাহির হয়ে আর ফিরে না আসায় তার মা ৫ অক্টোবর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলামের নির্দেশনায় উক্ত সাধারণ ডায়েরীর সূত্র ধরে জেলা পুলিশের একাধিক টিম নিখোঁজ মোঃ আমিনুর বিশ্বাস@আলিপ এর খোঁজে মাঠে নামে এবং জানতে পারে ঘটনার দিন রাতে নিহত আমিনুর এবং স্থানীয় চাচড়া গ্রামের মোঃ বাহারুল বিশ্বাসের ছেলে
মোঃ মিনারুল বিশ্বাস ও মোঃ হাফিজুর মোল্যার ছেলে মোঃ হৃদয় মোল্যা একত্রে আমিনুরের ইজি ভ্যান নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ মোঃ মিনারুল বিশ্বাসকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে, সে এবং মোঃ হৃদয় মোল্যা একত্রে আমিনুর বিশ্বাসকে কোমল পানীয়র সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে পান করায় এবং যখন তার ঘুম ঘুম ভাব আসে তখন আসামী হৃদয় মোল্যা আমিনুরের ভ্যান চালিয়ে বাহিরগ্রাম বাজারে যায়। অতঃপর আমিনুরকে বাহিরগ্রাম বাজারে রেখে ভ্যান চার্জ দেওয়ার নাম করে ভ্যানটি আসামী হৃদয় মোল্যার মামার বাড়ি রেখে আসে। তারপর তারা তিনজন একত্রে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা দিয়ে দেবভোগের দিকে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে আমিনুরের ঘুম পাওয়ায় আসামীদ্বয় তার সাথে ঘুমানোর ভান করে একত্রে দেবভোগের বিলের মধ্যে ঘাসের উপর শুয়ে পড়ে। এরপর হৃদয় মোল্যা আমিনুরের পা ধরে রাখে এবং অপর অভিযুক্ত মিনারুল বিশ্বাস গলাচেপে শ্বাসরোধ করে আমিনুরকে হত্যা করে মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী ডোবার কচুরীপানার নিচে রেখে আসে। পুলিশ আসামিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ইজি ভ্যান ও আমিনুরের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করে।
আসামিদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।