
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী শাখার আদ্-দীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মাঠকর্মী (এফএইচডি) মোছা. দিতি খানমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কেউ গৃহকর্মী, কেউ ভ্যানচালকের স্ত্রী, কেউ গৃহিণী, আবার কেউ দিনমজুর বা চায়ের দোকানদার রয়েছেন।

রুবিয়া খানম নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেন,‘আমি ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম এবং নিয়মিত কিস্তি দিচ্ছিলাম। কিন্তু কিস্তির বই দিতি আমার কাছে দেননি। সেই বই ব্যবহার করে তিনি আমার নামে আরও ২২ হাজার টাকার ঋণ তুলেছেন, যা আমি জানতাম না। এছাড়া আমি যে টাকা জমা দিয়েছি সেটিও সঠিকভাবে বইয়ে দেখানো হয়নি। পরে আমাকে একটি নতুন বই দেন, সেখানে দেওয়া ছবিটিও আমাদের নয়।’
তার মতো বিউটি বেগম, জনতা বেগম, উরজাহান, পাখি বেগম, ময়না বেগমসহ আরও অনেকে একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। অনেকের ভোটার আইডি ও ছবি ব্যবহার করে তাদের অজান্তে ঋণ তোলা হয়েছে।
জনতা বেগমের শাশুড়ি জানান,‘আমার ছেলে গরিব মানুষ, ঘর করার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিতে চেয়েছিল। দিতি ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিতে বলেছিল। আমরা সেই টাকা দিয়েছি, কিন্তু মাসের পর মাস ঘুরেও ঋণ পাইনি। পরে শুনছি, আমার ছেলের নামে ৭০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে।’
এ ঘটনায় আদ্-দীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের পক্ষ থেকে গত ২১ আগস্ট অভিযুক্ত দিতি খানমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সংস্থার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আবু বকর সিদ্দিকী প্রেরিত নোটিশে বলা হয়, দিতি খানম দায়িত্ব পালনকালে ভুয়া নথি সাজিয়ে ঋণ উত্তোলন এবং গ্রাহকদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মোট আত্মসাতের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৪ টাকা বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে দিতি খানম বলেন,‘৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। মাঠকর্মীর দায়িত্ব শুধু ঋণ ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে অফিসে জমা দেওয়া। নতুন সদস্য অনুমোদন, ঋণ যাচাই ও বিতরণ শাখা ও এরিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব।’
তিনি আরও দাবি করেন,‘পূর্বে দায়িত্বে থাকা হিসাবরক্ষক উম্মে হাবিবা, এরিয়া ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদ ও শাখা ব্যবস্থাপক এ.এইচ.এম কামাল যোগসাজশে ভুয়া সদস্য বানিয়ে ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্তে তা প্রমাণিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বরখাস্ত হন।’
অন্যদিকে এরিয়া ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদ বলেন,‘দিতি খানমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক। গ্রাহকরা অফিসে এসেছেন, তবে ছবি ও কাগজপত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব প্রতারণা দিতিই করেছেন।