বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
Title :
নড়াইলের বড়দিয়া হাইস্কুল মার্কেটে হোটেল অপসারণের নির্দেশ দিলেন ইউএনও লোহাগড়া। কালিয়ায় ১৪৪ ধারা চলাকালে ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলোড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আলোচনায় রবিউল ইসলাম রবি বিশ্বাস কালিয়ায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ তিনজন আটক নড়াইলে জামাত নেতার কয়লা ভাটার তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশী কালিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে চার জনের জেল ও জরিমানা লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ বাংলাদেশির মানবিক প্রত্যাবাসন কালিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, যশোরে গেলেন ৪৫ রোগী কালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ভাড়াটিয়া ও প্রতিবেশী মিলে ধর্ষণের পর ইমামের স্ত্রীকে হত্যা করে।

আমিন টিভি ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪
  • ৪০১ Time View

আমিন টিভি ডেস্ক নিউজঃ

নড়াইল সদর থানাধীন গোবরা গ্রামে ইমাম মোঃ শরিফুল ইসলামের স্ত্রী ইতি বেগম (৪২) হত্যা কান্ডে
জিয়াউর রহমান(৪২) নামে এক আসামীকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। ২৭ মে (সোমবার) রাত ১০ টায় সদর থানার গোবরা গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে আটক করা হয়। অপর আসামী মনিরুল ইসলাম ওরফে মনি পলাতক রয়েছে। আটক জিয়াউর রহমান ওই গ্রামের মৃত নেছার বিশ্বাসের ছেলে।

জানা যায়, স্বামী লোহাগড়ায় ইমামতি করায় নিঃসন্তান ইতি বেগম একাই বাড়ীতে থাকতেন। বিগত ২০ এপ্রিল রাত্র অনুমান ৮:৩০ টার দিকে ইমাম শরিফুল ইসলামের স্ত্রী ইতি বেগমকে খু্ঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে খবর পায়। এ দিকে ভাড়াটিয়া মো. মনিরুল ইসলাম মনির ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন সন্ধ্যা অনুমান ৬ টার দিকে শরিফুলের এক আত্মীয় বাড়িতে একটা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানালে খোঁজাখুঁজি করে ভাড়াটিয়া মনিরুলের ঘরে চৌকির নিচে বস্তা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার স্ত্রী মোছা.ইতি বেগম এর গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। অতঃপর ২২ এপ্রিল শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মনিরুল ইসলাম (৪৮) সহ অজ্ঞাত ১/২ জনকে আসামী করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মো. তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে নড়াইল সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো.সাজেদুল ইসলাম, এসআই(নিরস্ত্র) মো.সাইফুল ইসলাম ও মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই(নিরস্ত্র) মো.সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গঠিত একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে জিয়াউর রহমানকে তার নি বাড়ী থেকে আটক করে।

আসামি জিয়াউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, পলাতক আসামি মো.মনিরুল ইসলাম ওরফে মনি ইতি বেগমের নিকট হতে আনুমানিক ০৫ (পাঁচ) মাস পূর্বে ২০,০০০/— (বিশ হাজার) টাকা এবং ০৩ (তিন) মাস পূর্বে ৩০,০০০/— (ত্রিশ হাজার) টাকা ইট কিনে দেওয়ার কথা বলে নেয়। কিন্তু মো.মনিরুল ইসলাম মনি ইট কিনে না দিয়ে তাকে ঘোরাতে থাকে। পরবর্তীতে জমি ক্রয়ের জন্য ব্রাক ব্যাংক হতে ২,০০,০০০/— (দুই লক্ষ) টাকা লোন করে ইতি বেগম এবং বিষয়টি আসামি মো.মনিরুল ইসলাম মনি ও জিয়াউর রহমান জানতে পারে। আসামিদ্বয় ভিকটিম মোছা.ইতি বেগমের উক্ত লোনের টাকা আত্মসাত করতে গোবরা কাকুর মোড়ে হাফিজ মিয়ার চায়ের দোকানে বসে পরিকল্পনা করে। ঐ সময় তারা স্পিড, চানাচুর, চকলেট, কেক ও ঘুমের ঔষুধ ক্রয় করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। মো. মনিরুল ইসলাম মনি একটি স্পিডের বোতলে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে রাখে এবং রাত অনুমান ১০ টার সময় আসামি জিয়াউর রহমানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে তার ঘরে একত্রিত হয়। এর কিছুক্ষণ পর মো.মনিরুল ইসলাম মনি ভিকটিম মোছা.ইতি বেগমকে ডেকে চানাচুর, চকলেট ও কেক খাওয়ানোর এক পর্যায়ে কৌশলে ঘুমের ঔষুধ মিশ্রিত স্পিড খাওয়ায়। এরপর আসামি মো. মনিরুল ইসলাম মনি প্রথমে তার ঘরের ফ্লোরের মাঝে ভিকটিম মোছাঃ ইতি বেগমকে ধর্ষণ করে এবং পরে আসামি জিয়াউর রহমান তাকে ধর্ষণ করে। ভিকটিম মোছা. ইতি বেগমকে ঘুমের ঔষুধ সেবন করানোর কারণে অচেতন হয়ে পরে। তখন রাত অনুমান ০২ টার সময় আসামি জিয়াউর কাঠের চৌকি উঁচু করে ধরে আর আসামি মো.মনিরুল ইসলাম মনি ভিকটিম মোছা. ইতি বেগমকে টেনে চৌকির নিচে নেয়। এরপর আসামি জিয়াউর ইতি বেগমের দুই পা চেপে ধরে রাখে আর আসামি মো.মনিরুল ইসলাম মনি তার ঘরে থাকা ধারালো কাঁচি দিয়ে ইতি বেগমের বুকের উপর বসে গলা কেটে হত্যা করে।

আসামি জিয়াউর রহমান’কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পালাতক আসামি মো. মনিরুল ইসলাম মনি’কে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin