
নড়াইলের লোহাগড়ায় নবগঙ্গা নদীর পাড় থেকে সনাক্ত হওয়া লাশের হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামী জাকিক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। চলতি মাসের ০২ তারিখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় মেম্বার এর মাধ্যমে পুলিশ ভিকটিমের পরিবারকে খবর দিলে তার পিতা-মাতা এসে সন্তানের পরিচয় সনাক্ত করে। সনাক্ত হওয়া লাশ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার নিজদেবপুর গ্রামের মুজিবর রহমান ঢালীর ছেলে লিটন হোসেন বলে জানা যায়। অতঃপর লিটনের পিতা লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গারি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে লিটন হোসেন (৪১) গত ২৯ আগষ্ট হতে ১ লা সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে যেকোন সময় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ঘটনার দিন আসামি জাকির হোসেন মোল্যা ও ভিকটিম লিটন হোসেনের মধ্যে ভাঙ্গারি বিক্রির ৭০০/১০০০ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এরই জেরে লোহাগড়া পৌরসভার ০৭ নং ওয়ার্ডের জনৈক মোঃ মোস্তফা শেখের তিনতলা ভবনের নিচে নবগঙ্গা নদীর দক্ষিণপাড়ে তাদের কথা কাটাকাটি হলে জাকির হোসেন মোল্যা ভিকটিমের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে আসামীর কাছে থাকা চাকু দিয়ে ভিকটিমের পেটে গুরুতর জখম করায়ওখানেই তার মৃত্যু হলে জাকিক স্থান ত্যাগ করে।
নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুনের নির্দেশনায় লোহাগাড়া থানা পুলিশ মামলার রহস্য উদঘাটনে তৎপর হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মামুনুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে উক্ত হত্যা মামলার মূল আসামী মোঃ জাকির হোসেন মোল্যাকে গ্রেপ্তার করে ১৫ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। ইতিপূর্বে আসামির নামে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা রয়েছে।