
নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আরও ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিককে মানবিক সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সমন্বিত উদ্যোগে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আইওএমের সহায়তায় ১৭৪ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে লিবিয়ার বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটে ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় তারা ঢাকায় পৌঁছান। এ সময় ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে।
জানা গেছে, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারের পর দীর্ঘদিন তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিয়মিত সমুদ্রপথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক অভিবাসী মৃত্যু, নিখোঁজ, জিম্মি কিংবা আটকের শিকার হন। পরবর্তীতে তাদের অনেককেই দীর্ঘ সময় ডিটেনশন সেন্টারে মানবেতর পরিবেশে থাকতে হয়।
এ পরিস্থিতিতে দালাল ও মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অনিয়মিত পথে বিদেশ না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এদিকে পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম বলেন, দালালচক্রের প্রতারণা থেকে তরুণদের রক্ষা করতে স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক মতবিনিময়, সেমিনার ও পথসভা আয়োজন করা প্রয়োজন। তিনি অভিভাবকদের স্থানীয় প্রশাসন, থানা পুলিশ ও সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সন্তানদের বিদেশ পাঠানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বৈধ ট্রাভেল এজেন্সি, সঠিক ঠিকানা, বৈধ ভিসা, চাকরির ধরন ও অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক চেক এবং অফিসিয়াল মানি রিসিট নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় কাউকে না পাঠানোর জন্য তিনি সতর্ক করেন।
সৈয়দ খায়রুল আলম আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় বৈধ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ না থাকলেও দালালচক্র বিভিন্নভাবে মানুষকে প্রলোভিত করে লিবিয়ায় নিয়ে যায় এবং পরে সমুদ্রপথে ইউরোপে পাঠানোর নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। এসব প্রতারক ও মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের শনাক্তকরণ, কনস্যুলার সহায়তা এবং দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদেরও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।