বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
Title :
নড়াইলের বড়দিয়া হাইস্কুল মার্কেটে হোটেল অপসারণের নির্দেশ দিলেন ইউএনও লোহাগড়া। কালিয়ায় ১৪৪ ধারা চলাকালে ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলোড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আলোচনায় রবিউল ইসলাম রবি বিশ্বাস কালিয়ায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ তিনজন আটক নড়াইলে জামাত নেতার কয়লা ভাটার তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশী কালিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে চার জনের জেল ও জরিমানা লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ বাংলাদেশির মানবিক প্রত্যাবাসন কালিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, যশোরে গেলেন ৪৫ রোগী কালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

মরার পরে খাড়ার ঘা- মূল্য বৃদ্ধি হলেও কালিয়ায় বন্ধ হয়নি অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি, দিশেহারা সাধারণ মানুষ!

ডেস্ক নিউজঃ
  • Update Time : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজঃ

নড়াইলের কালিয়া ও নড়াগাতীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। সরকার দাম বাড়ানোর পরেও দোকানীরা অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। এ যেন মরার পরে খাড়ার ঘা। ইতোমধ্যে অনেক চা দোকানী রাগে ও ক্ষোভে বন্ধ করে দিয়েছে গ্যাসে চা বিক্রি।
সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৭২৮ টাকা হলেও, জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন দোকানে তা ১,৯৫০ থেকে ২,০৫০ টাকা কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে কালিয়া ও নড়াগাতীসহ উপজেলার কলাবাড়িয়া, জয়নগর, বড়দিয়া, মহাজন, যোগানীয়া, মাউলী, বাঐশোনা, পহরডাঙ্গা, পিরোলী খড়রীয়া বাজারে বিভিন্ন দোকানেও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অতিরিক্ত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বা তারও বেশী দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের কপালে দেখা গেছে চিন্তার ভাজ।

ভুক্তভোগী কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তাদের ভাষায়, ব্যবসায়ীরা একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছে ক্রেতাদের। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি না দিলে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

কালিয়ার মুনিয়া ষ্টোরের মনিরুল মোন্ডল ওমেরা ও বসুন্ধরা সাপ্লাই করে, নড়াগাতী বাজারে সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মোঃ আকিকুর রহমান যমুনা, ওরিয়ন ও টিএমএসএস সাপ্লাই দেন, যোগানীয়া বাজারে মোল্যা ট্রডার্সের আল আমিন মোল্যা পেট্রোম্যাক্স, নাভানা ও জেএমআই এর ডিলার হিসেবে আছেন, এদিকে লোহাগড়া গ্যাস সাপ্লাই এর স্বত্বাধিকারী মোঃ জামাল কালিয়া ও নড়াগাতী এলাকার বিভিন্ন দোকানে বসুন্ধরা গ্যাস বিতরণ করেন।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ এ সকল ডিলাররা কালিয়া ও নড়াগাতীর সমস্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে তাদের থেকে গ্যাস কিনতে হয়। অথচ ভাউচার চাইলে গ্যাস দিবেনা বলে চলে যায়। তাই ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত মূল্যে কেনা বেচা করতে হয় আবার মোবাইল কোর্টে জরিমানার শিকার হতে হয়। তারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সচেতন মহলে। তারা বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে ডিলারদের বাধয়তামূলক ভাউচার প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা এ সমস্য ক্রমান্বয়ে প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, “এলপিজি গ্যাসের বাজার নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এছাড়া গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে, যাতে কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি না করে।
তবে ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দাবি, বাস্তবে বাজারে এর কোন প্রতিফলন নেই। দৃশ্যমান অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই এই অনিয়ম ও নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব বলে তারা জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin