ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের কালিয়া বাজারে দোকান কেনার কথা বলে এক প্রবাসীর পরিবারের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মো. ওবায়দুর লস্করের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী রানা লস্করের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বোন রাজিয়া সুলতানা সংবাদ সম্মেলন করে প্রতারণার বিচার দাবি করেছেন। ওবায়দুর লস্কর উপজেলার হাড়িডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলী লস্করের ছেলে ও দি পাটনা একাডেমির কম্পিউটার শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী প্রবাসী রানা লস্কর একই গ্রামের নাসির লস্করের ছেলে।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় কালিয়া পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী রানা লস্করের বোন রাজিয়া সুলতানা।
তিনি জানান, তার লিবিয়া প্রবাসী ছোট ভাই রানা লস্কর কালিয়া বাজারে একটি দোকান কেনার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে জায়গা খুঁজছিলেন। এ সুযোগে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই ওবায়দুর লস্কর কালিয়া বাজারের একটি জায়গা কেনার প্রস্তাব দেন।
অতঃপর কালিয়া বাজারের তিনতলা একটি ভবন বিক্রির কথা বলে ভবনের প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে মালিক সাজিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি করা হয়। পরে ধাপে ধাপে বায়না স্বরূপ মোট ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর কালিয়া হাসপাতালের সামনে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে ভুয়া ক্রয় চুক্তিনামা করে দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
পরবর্তীতে বাকি টাকা দিয়ে জায়গাটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বললে ওবায়দুর লস্কর টালবাহানা শুরু করেন। ভবনটির প্রকৃত মালিক গোপা ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ভবনটি বিক্রির জন্য কাউকে টাকা নেওয়া বা চুক্তির কথা অস্বীকার করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং নিজের কম্পিউটার দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তারা।
পরে প্রতারণার অভিযোগে কালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ৬০ লাখ টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ওবায়দুর লস্করের সাথে কথা হলে বলেন, ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকায় প্রকৃত মালিকের সাথে ভবন কেনাবেচা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তাদের কাছ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা বায়না স্বরূপ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সম্পুর্ন টাকা পরিশোধ করে লিখে নিতে বললে তারা টাকা নেই বলে সময় ক্ষেপন করলে ওই টাকা তিনি ফেরত দেন। এ ছাড়া তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে রানা লস্করের বাড়ী নির্মাণের যাবতীয় সামগ্রী বাকিতে সাপ্লাই দেওয়ায় কয়েক দফায় টাকা নিয়েছেন এবং আরো টাকা পাবেন। তা ছাড়া লেনদেনের সমস্ত ডকুমেন্টস সংরক্ষিত আছে বলে তিনি জানান।