ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইল জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং কালিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান শহীদ এখলাছ উদ্দিন আহমেদের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার (১১ জুন) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে তাঁর কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর জনগণ অংশ গ্রহনে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এখলাছ উদ্দিন আহমেদ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বেন্দাচর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও গণআন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে নড়াইল মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বৃহত্তর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যশোর সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ভারতের বয়রা যুদ্ধ শিবিরে ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর নেতৃত্ব ও অবদান মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
স্বাধীনতার পর দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর প্রচেষ্টায় কালিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা, শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়।
স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, শহীদ এখলাছ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন আদর্শবান রাজনীতিক, দক্ষ সংগঠক এবং গণমানুষের নেতা। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বৃহত্তর যশোর জেলার ১২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক কালিয়া পৌর সভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান এখলাজ উদ্দিন আহম্মাদ ও তাঁর জৈষ্ঠ্য পুত্র এহসানুল হক টুনু ১৯৮৫ সালের ১১ জুন সকালে বারই পাড়া খেয়া ঘাট পার হওয়ার সময় স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হাতে তিন তাঁর পুত্রসহ শহীদ হন।