ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের কালিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাকৃত জমির তদন্ত প্রতিবেদনে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে ভুমি অফিসের কানুনগো মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ২৫ সালের ১৮ নভেম্বর
সরেজমিনে নালিশী জমির দখল সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে গিয়ে তিনি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দেওয়া বক্তব্য আমলে না নিয়ে অফিসের কর্মচারী মাসুম বিল্লাহর প্ররোচনায় বিবাদীর বিক্রিত মালিক নাবালক বায়েজিদ এর পিতা শাহাজাহান শেখকে ২৫ সালের নভেম্বরের ১৫ তারিখে ১২ শতক জমি দখল দেখিয়ে মনগড়া মিথ্যা প্রতিবেন দিয়েছেন। এমতাবস্থায়, পুনঃতদন্তের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
১০ জানুয়ারী, (শনিবার) দুপুরে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের কাছে মোচন্দপুর গ্রামের নালিশী জমি সংলগ্ন রিজাউল শেখ (৭৫), মোঃ হোসেন সরদার (৩৫), মফিজুর সরদার, ইয়াকুব বিশ্বাস, চঞ্চল মোন্ডোল, খাজা মিয়াসহ অনেকে বলেন, উক্ত জমি পৈত্রিক সুত্রে প্রায় ৪০ বছর আগে থেকে মানিক বিশ্বাস ও রতন বিশ্বাস ভোগ দখলে আছে। অন্য কেউ কখনো ভোগ দখলে আসেনি। তদন্ত অফিসারকে তারা এ বক্তব্য দিলেও উল্টো প্রতিবেদন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা এবং এডিল্যান্ডকে সরেজমিনে এসে পুনঃ তদন্তের আহ্বান জানান।

জানা যায়, এর আগে ভুক্তভোগীদের ১৭২ নং দাগে ১৪ শতক জমি ভোগদখলে থাকা অবস্থায় একই গ্রামের মৃত এশারত বিশ্বাসের ছেলে হারুনার রশিদ দিং ১৯৮৭ সালের একটি দলিল মুলে দখলশূন্য অবস্থায় গোপনে ১২ শতক জমি নামজারী করে জোরপূর্বক ভোগদখলের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হুমকি দেন। অতঃপর রতন বিশ্বাস ২৫ সালের ০৬ অক্টোবর বিজ্ঞ আদালতে হারুন বিশ্বাস দিং এর নামে ৪৪ ধারায় মামলা করেন এবং আদালতের নির্দেশে কালিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের কানুনগো মোঃ সিরাজুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত করেন।

এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে ভুমি অফিসের প্রসেস সারভেয়ার মাসুম বিল্লাহ বলেন, তদন্তকালীন সময়ে তিনি শুধু উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষর নিয়েছেন। তবে উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

কানুগো সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে বলেন, বাদী দীর্ঘদিন দখলে রয়েছে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তবে বিবাদী নাবালক বায়েজিদের কাছে বিক্রি করায় তার বাবা শাহাজানের নামে সদ্য সাময়িক দখল লেখা হয়েছে। মিথ্যা কেন লিখলেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক আগের প্রতিবেদন পুনরায় না দেখে কিছু বলতে পারবেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) শ্রাবনী বিশ্বাস বলেন, অসুস্থতার কারণে কানুনগো ছুটিতে আছেন। আসলে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তবে প্রতিবেদন অপছন্দ হলে বাদী পক্ষ নারাজি দিতে পারেন। পরবর্তীতে কোর্টের অনুমতি সাপেক্ষে পুনঃতদন্ত করা হবে।