ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইল সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক নারী সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা গেছে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ওই নারী ইউপি সদস্যের নাম শিউলি বেগম (৫৫)। তিনি সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামে।
ইউপি সদস্যের পরিবার অভিযোগ, সম্প্রতি পেড়লী গ্রামে নিজ বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করে বাউন্ডারি দেওয়ার উদ্দ্যোগ নেন ইউপি সদস্য শিউলি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সার্ভেয়ার এনে জমি পরিমাপ করেন সেদিন আশেপাশে জমির মালিকদেরও ডেকেছিলেন। সার্ভেয়ারের মাপে কারো কোনো আপত্তি ছিল না। তখন সার্ভেয়ারের মাপ অনুযায়ী পিলার পোতেন শিউলির পরিবার। অথচ নিজের জমিতে পিলার পোতার কারণে সেদিন রাতেই শিউলিকে ফোন করে হুমকি দেন একই এলাকার হাফিজুর রহমান। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর পিলার জড়িয়ে তারকাঁটা দিয়ে বেড়া দিচ্ছিলেন শিউলি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় হাফিজুরের নির্দেশে তার কিছু লোকজন এসে শিউলির স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও পিলার ভাঙাচোরা শুরু করে। এই চিত্র মুঠোফোনে ধারণ শুরু করেন শিউলির ছোট মেয়ে মৌসুমি। তখন মৌসুমির হাত থেকে ফোন কেড়ে নিতে যান হামলাকারীদের একজন। এসময় ফোন না দিতে চাওয়ায় মৌসুমির ওড়নার সঙ্গে গলায় থাকা দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিড়ে নিয়ে যায় তারা। এসময় মৌসুমিকে রক্ষা করতে তার মা শিউলি এগিয়ে আসলে, শিউলিকে তারা লাথি মারেন। তখন পড়ে গিয়ে শিউলির ভাঙা হাড়ের জয়েন্ট থেকে খুলে গুরুতর আহন তিনি। পরে ৯৯৯ এ ফোন দিলে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানা একটি অভিযোগ করেন শিউলির স্বামী মহসিন আলী।
শিউলির মেয়ে মৌসুমি খানম বলেন, "হাফিজুররা আগে থেকেই আমাদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেয়। আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। এখন পিলার ও তারকাঁটা দিতে গেলে তারা হুমকি দেয় যে, 'আমারা যদি জমিতে তারকাঁটা দেয়, আমাদের উধাও করে দেবে। তাদের অনুমতি নিয়ে আমাদের সব করতে হবে।' আমাদের জমি মেপে আমরা পিলার দিছি, এখানে কার অনুমতি নিতে হবে?"

মৌসুমি আরো বলেন, " হাফিজুররা দাবি করতেছে, 'আমরা যদি বাউন্ডারি দি, 'তাহলে বাউন্ডারির সামনে দিয়ে যে রাস্তা আছে, সেটি নাকি পাকা হবে না।' আমার কথা, 'আমার জায়গা মেপে আমি বাউন্ডারি করছি, সরকারের জায়গায় সরকার রাস্তা করবে। যদি আমাদের জমিতে সরকারের বাঁধে, আমি ছেড়ে দিব।'কিন্তু তারা আমাদের বাউন্ডারি দিতেই দেবে না। আসল কথা হচ্ছে, আমরা যদি তাদের চাঁদা দিতাম, তাহলে কোনো সমস্যা হতো না।"
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে অনেক মানুষের জমির ফসল আনতে হয়। কিন্তু রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুকনো মৌসুমে এই রাস্তার কাজ করবে এলজিইডি। আমাদের কথা, রাস্তার সরকারি জায়গাটা আগে আমরা মেপে বের করে নি, তারপর শিউলিরা তাদের জমিতে পিলার পুতুক। কিন্তু তা না করে, রাতরাতি পিলার পুতার উদ্দেশ্য তো ভাল না। এতে রাস্তার কাজে বাঁধা পড়তে পারে। তাই আমাদের লোকজন প্রতিবাদ করেছে। এসময় আমার এক ভাতিজা পিলার উঠিয়ে ফেলতেছিল, তখন মোবাইলে ভিডিও করার সময় মৌসুমির ফোন কেড়ে নিতে গেছিল সে। কিন্তু শিউলিদের মারধর করা কিংবা গহনা নিয়ে যাওয়া সহ অন্যান্য সকল অভিযোগ মিথ্যা। তারা আমাদের স্বজন, তাদের সঙ্গে আমরা এসব করব কেন।"
এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, "আমি বাইরে আছি। অভিযোগ দিয়েছে কি না, জানা নেই। দিলেও দিতে পারে। ডিউটি অফিসার বলতে পারবে।"