ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে চুল কাটা কাঁচির আঘাতে আহত হয়ে ষোল দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেই কিশোরের মৃত্যুর হয়েছে। গতকাল (৮ আগষ্ট) শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে রাতে নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম আল-মামুন (১৬)। সে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার যোগানিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী হাবিবুর রহমানের ছেলে ও এশিয়ান টিভির কালিয়া উপজেলা প্রতিনিধি আমানত ইসলাম পারভেজ এর ভাগ্নে। আল-মামুন স্থানীয় যোগানিয়া ডি. এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।
নিহত মামুনের স্বজনরা জানান, গত ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর ১২ টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে যোগানিয়া বাজারের প্রহ্লাদ বিশ্বাসের সেলুনে চুল কাটাতে যায় আল-মামুন। এসময় সেখানে একই এলাকার নলীন নন্দীর ছেলে শিমুল নন্দীর সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তর্কাতর্কি হয় তার৷ এরইমাঝে শিমুল সেলুনে থাকা চুল কাটা কাঁচি দিয়ে মামুনের গলায় আঘাত করে। মামুনের চিৎকারে তার চাচাতো ভাই ওমর ফারুক এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করে দৌড়ে পালিয়া যায় শিমুল৷ পরে স্থানীয়রা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। মামুনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই দিনই মামুনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শুক্রবার সকালে মামুনের মৃত্যু হয়।
মামুনের মামা আমানত ইসলাম পারভেজ বলেন, "গতকাল রাতেই মামুনকে দাফন করা হয়েছে। শিমুলের কাঁচির আঘাতে আমার ভাগ্নের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কয়েকজন। আমরা তাদের সকলের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"
সেলুনে মামুন ও ফারুককে কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিমুল নন্দী পলাতক ছিলেন। গতকাল মামুনের মৃত্যুর খবরের পর তার পরিবারে অন্য সদস্যরাও গা-ঢাকা দিয়েছেন। এ কারণে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। তাদের পরিবারের একটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে৷
আজ শনিবার বিকেলে নড়াগাতি থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ''এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।''