ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং দুর্নীতিবাজ উপজেলা নির্বাচন অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসকে চাকুরীচ্যুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

১ লা মার্চ ( শনিবার) সন্ধায় ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগনের আয়োজনে পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন প্রধান সড়কে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতিবাজ নির্বাচন অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসকে চাকুরীচ্যুত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আনিচ মেম্বারের মেয়ে মারিয়া ইসলাম তিসা, স্ত্রী রহিমা বেগম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নেছার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিন বিশ্বাস, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও চাচুড়ী বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, অবৈধভাবে ঘুষ গ্রহন করে নতুন ভোটার বানানোর বেআইনী কাজ করছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস। ঘুষের টাকা সহ হাতেনাতে ধরা পড়ে এই দূর্নীতিবাজ অফিসার। এই অফিসারের এমন অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় ওয়ার্ড সদস্য আনিস শেখ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মিলটন মোল্যার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠান ওই দূর্নীতিবাজ ও অসৎ নির্বাচন অফিসার। অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে এবং দুর্নীতিবাজ নির্বাচন অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসকে চাকুরীচ্যুত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে নির্বাচন অফিস ও ডিসি অফিস ঘেরাও করা হবে বলে জানান।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন মোল্যা, পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার মোল্যা, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিল্টন হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি জামিরুল ইসলামসহ হাজার হাজার প্রতিবাদি নারী পুরুষ।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল সহকারে চাচুড়ী বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।

জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার) পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার তথ্য হালনাগাদ চলাকালীন সাধারন জনগনকে হয়রানি করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসের ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আনিস শেখ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মিলটন মোল্যাকে জানালে তারা প্রতিবাদ করে। এ সময় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনির মধ্যস্ততায় ইউএনও কালিয়াকে অবহিত করে ঘুষের টাকাও ফেরত দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা হয় এবং নির্বিঘ্নে কাজ করেন তারা। অতঃপর ওই দিনই কালিয়া গিয়ে মিমাংসিত বিষয়ে প্রতিবাদকারী আনিচ শেখ ও মিল্টন মোল্যার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ এনে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন নির্বাচন অফিসার জান্নাতুল ফেরদাউস এবং মধ্যরাতে পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠায়।