
* শহরের ভেতর দিয়ে ভারী যানবাহনের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল
* তিন কিমি সরু সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ১২-১৩টি বাঁক
* প্রতিদিন চলছে দূরপাল্লার দশ সহস্রাধিক ভারী যানবাহন
ডেস্ক নিউজঃ
পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ভাঙ্গা-যশোর ভায়া নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়ক। এ সড়কের নড়াইল শহরাংশের তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়কের কাজ শুরুর আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নির্মাণ কাজের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাস এবং নকশা চূড়ান্ত করা হলেও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। যে কারণে দুই যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও নড়াইল শহরাংশের এ সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ করা হয়নি। বিকল্প না থাকায় ওই মহাসড়কের যানবাহন নড়াইল মূল শহরের ভেতরের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার ভারী যানবাহন চলাচল করছে। ফলে জেলা শহরে একটি বাইপাস সড়কের অভাবে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা;বাড়ছে যানজট।
এদিকে, প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে অন্তত ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকের একদিক থেকে অপর দিকে কিছুই দেখা যায় না। আঁকাবাঁকা সড়কে যানবাহন নিয়ে চলাচলে চালকদেরও বেগ পোহাতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে আঞ্চলিক এই মহাসড়কের নড়াইল অংশের চিত্রা নদীর ওপর এস এম সুলতান সেতু নির্মাণ করা হয়। মূল নকশা অনুযায়ী, এই মহাসড়কের বাসভিটা থেকে আউড়িয়া ইউনিয়নের মালিবাগ পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার সংযোগ (বাইপাস) সড়ক নির্মাণের কথা ছিল। এর মধ্যে তখন মালিবাগ থেকে নড়াইল পৌরসভার ধোপাখোলা পর্যন্ত অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই বছরে এই সংযোগ সড়কের ধোপাখোলা থেকে বাসভিটা পর্যন্ত বাকি তিন কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাস এবং নকশা চূড়ান্ত করা হয়। সড়ক নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ১৯ দশমিক ৬১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। যে কারণে গত প্রায় ২৫ বছরেও সংযোগ সড়কের এ অংশের নির্মাণকাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে শহরবাসীকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন ,পদ্মা ও মধুমতি সেতু উদ্বোধনের পর যাতায়াত সহজ হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের। তবে বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল হয়ে ভাঙ্গা যেতে নড়াইল শহরাংশের তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়কের অভাবে চরম ভোগান্তি রয়ে গেছে এই অঞ্চলের মানুষের। একইসঙ্গে উভয় সেতু চালু হওয়ায় এই সড়কে বেড়েছে প্রচন্ড গাড়ির চাপ। আবার শহরের ভেতর দিয়ে সরু এ সড়কে বিপরীতমুখী দু'টি বাস পাশাপাশি যাতায়াত করতে পারছে না। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এই সড়কের অনেক যানবাহন রাজধানী ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ ও খুলনা হয়ে ৮৬ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে বেনাপোল স্থলবন্দরে যাচ্ছে। এতে দুই থেকে তিন ঘণ্টার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগছে সাত থেকে আট ঘণ্টা। ফলে পদ্মা ও মধুমতী সেতুর কাঙ্খিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্তত ১০টি জেলার লাখো মানুষ।
এ সড়কের পরিবহন চালক মো. আজিজ মোল্যা বলেন, ‘পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালু হওয়ার আগে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে চলাচল করছে ৮ থেকে ১০ হাজারটি। কিন্তু নড়াইলের কেন্দ্রিয় বাসটার্মিনাল থেকে ধোপাখোলা মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়ক না হওয়ায় গাড়ি নিয়ে শহরের ভেতরের সরু ও আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।’
মফিজুল ইসলাম নামের একজন যাত্রী বলেন,‘শহরের ভেতরের সড়কের উভয় পাশেই একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাঁট-বাজার, হোটেল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলছে।’
এ সড়কের লাগোয়া শতবর্ষী সরকারি ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক মো.এনামুল হক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে শত শত যানবাহন চলাচল করায় সড়ক সংলগ্ন স্কুল,কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। যে কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
জানতে চাইলে নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান,‘ভাঙা থেকে শুরু হয়ে বেনাপোল পর্যন্ত ছয় লেনের মহাসড়ক (এক্সপ্রেস ওয়ে) নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। আর এ মহাসড়ক নড়াইল পৌরসভার ধোপাখোলা মোড় থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে সীতারামপুর জেলার কেন্দ্রিয় বাসটার্মিনাল গিয়ে যশোর বেনাপোল মহাসড়কে যুক্ত হবে। ফলে এটি বাস্তবায়ন হলে নড়াইল শহরাংশের ওই তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়কের আর প্রয়োজন হবে না। তখন শহরের ভেতরের সরু ও আঁকাবাঁকা রাস্তা ব্যবহারের পরিবর্তে সহজে এবং দ্রুত গতিতে ওই মহাসড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।