
ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের বড়দিয়ায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর নবগঙ্গা-মধুমতী নদীর সংগমস্থলে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) লক্ষ্মীপূজার মেলার শেষ দিনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা আজরিন তন্বী এবং মেলা উদ্যাপন কার্যনির্বাহী পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকা থেকে আসা বাহারি নামের ভাই-বোন স্বপ্ন তরী, মা শীতলক্ষ্যা, জয় মা কালী, মোবাইল বাচাড়ি ও তুফানসহ পাঁচটি দৃষ্টিনন্দন নৌকা।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকাবাইচ যে লোকায়ত বাংলার লোকসংস্কৃতির অংশ, তা ভুলে যায়নি বাঙালিরা। তাই তো হেমন্তের বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সকাল থেকেই আশেপাশে বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীদের ঢল নামে নদীপাড়ে।

আয়োজকদের মধ্য থেকে খান বিকুল আলম, জিয়াউর রহমান মোল্যাসহ অনেকে জানান, নবগঙ্গা- মধুমতির সংগমস্থল থেকে ফেরীঘাটে গিয়ে চারটি ধাপে সম্পন্ন হয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোপালগঞ্জের মোবাইল বাচাড়ি, রানার্সআপ হয়েছে বাশুড়িয়ার তুফান, তৃতীয় হয়েছে জয় মা কালী।
মেলা উদ্যাপন কার্যনির্বাহী পরিষদের আহ্বায়ক ও খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ বলেন, বড়দিয়ায় লক্ষ্মীপূজার মেলা দেড়শ’ বছর আগে থেকে হয়ে আসছে। মেলা উপলক্ষে যাত্রাগান, পালাগান, নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত। তবে মাঝে দীর্ঘ ১৮ বছর শুধু মেলা হতো। নৌকাবাইচ বন্ধ ছিল, এ বছর চালু করায় হাজার হাজার মানুষ এটা উপভোগ করেছে। ভবিষ্যতে এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং আরও অনেক ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।