ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়ায় প্রথম স্ত্রীকে ভূয়া ডিভোর্স করিয়ে ভারতীয় নাগরিককে ভূয়া বাবা মা সাজিয়ে ভোটার বানানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী চন্দন বনিকের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রথম স্ত্রীর একমাত্র কন্যা শ্রাবন্তি বনিক (১৫) এর জন্ম সনদেও তার মায়ের নামের স্থলে জালিয়াতি করে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় নাগরিক ২য় স্ত্রী বিথি বনিকের নাম। এ নিয়ে স্থাণীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বসলেও ন্যাজ্য বিচার পাননি প্রথম স্ত্রী কৃষ্ণা বনিক।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে যশোরের শঙ্করপুরের সুনিল দাশের মেয়ে কৃষ্ণা দাশের সাথে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মৃত খোকন বনিকের ছেলে চন্দন বনিকের ভালোবাসার সূত্রে হিন্দু ধর্মীয় মতে কালিয়ার খাশিয়াল ইউনিয়নের পাটনা গ্রামের একটি মন্দিরে বিবাহ হয়। উভয় পরিবার এ বিবাহ মেনে না নেওয়ায় বড়দিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত তারা। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালে তাদের ঘরে জন্ম নেয় শ্রাবন্তি। অতঃপর বিএনপি পন্থী চন্দন বনিক এলাকার রাজনৈতিক সমস্যায় ভারতে পাড়ী জমায়। এমতাবস্থায়, কন্যা সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষ্ণা বনিক। অবশেষে শশুর বাড়ীতে আশ্রয় নিলে তার ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। এ খবর কৃষ্ণার পরিবার জানতে পেরে তাকে নিতে আসলে বাচ্চাটাকে রেখে চন্দনের বাবা মা কৃষ্ণাকে তুলে দেয় তাদের হাতে। অতঃপর সন্তান ফিরে পেতে লিগ্যাল এইডে মামলা করলে এককালিন কিছু টাকা ও মাসিক কিস্তি বেঁধে রায় দেয় তারা। কিন্তু সে টাকাও দেয়নি চন্দন বনিক বলে জানান ভুক্তভোগী।
কৃষ্ণা বনিক আরো বলেন, চন্দন বনিক ভারতে গিয়ে সুদীপ্ত সাহার মেয়ে বিথি সাহাকে বিবাহ করে এবং আমার সাথে সংসার করবেনা বলে জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ২ য় স্ত্রী বিথি সাহাকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে ঘর সংসার শুরু করে এবং খুলনায় গিয়ে তার পরিচিত উকিলের মাধ্যমে আমার স্বাক্ষর জ্বাল করে একটি ভুয়া ডিভোর্স পেপার তৈরী করে, এর ২০ দিন পর আর একটি সরকারি ষ্ট্যাম্পে অপরিচিত ব্যক্তির সাথে আমার ছবি যুক্ত করে বিবাহ করেছে বলে এলাকায় জাহির করে এবং নানা ভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করে চলছে চন্দন। এ ছাড়া ২০২১ সালে কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের শুড়িগাতী গ্রামের অমর দাশ ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশকে ২য় স্ত্রী বিথি বনিকের বাবা মা সাজিয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুবালা রাণীর মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরী করেন এবং ওই ভুয়া জন্মসনদ দাখিল করে অনলাইনে আবেদন করে কোটাকোল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মুজিবর মোল্যার সনাক্তকারী স্বাক্ষরে ভোটার হয় আর ওই সূত্র ধরে আমার মেয়ে শ্রাবন্তীর জন্মসনদে আমার নামের স্থলে বিথি বনিক লেখা হয়। এ সকল বিষয়ে নড়াগাতী ও লোহাগড়া থানায় অভিযোগ করেও সুবিচার না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতের স্মরনাপন্ন হবেন বলে জানান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবিসহ স্বামী সন্তান ফিরে পেতে চান কৃষ্ণা বনিক। এ ছাড়া এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত স্বামী চন্দন বনিকের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে, ২ য় স্ত্রী ভারতীয় নাগরিককে ভোটার বানানো ও মেয়ের জন্ম সনদ থেকে প্রথম স্তীর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং অতি দ্রুত তিনি এটা সংশোধন করবেন বলে জানান। এ ছাড়া অন্যান্য অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথিত বাবা অমর দাশ বলেন, বিথি বনিক আমার মেয়ে নয়। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে এ ঘটনায় চন্দন বনিকের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন বলে জানান। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে কথিত পিতা অমর দাশের ছেলে মিলটন দাশের সাথে চন্দন বনিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধত্বের সুবাধে গোপনে এ কাজটি করেছেন তারা।
বড়দিয়া ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য মুজিবর মোল্যাও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
এ দিকে খাশিয়াল ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুবালা দাস স্বাক্ষরিত
জন্মসনদে বিথী বণিকের পিতা অমর দাশ ও মাতা কল্পনা দাশ এটা কীভাবে সম্ভব? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিথি বনিক ভারতীয় নাগরিক সে অমর দাশের মেয়ে নয়। ওই স্বাক্ষর তার নয়, কে বা কার সহায়তায় চন্দন বনিক এই নকল জন্মনিবন্ধন বানিয়েছে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনি চন্দনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপে যাবেন বলে জানান।