
আমিন টিভি অনলাইন ডেস্কঃ
নড়াইলের নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের কচুয়া ডাঙ্গা গ্রামে শরীফা বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর বিষ পানে আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী রিপন ঠাকুরকে ভয় দেখিয়ে ৪ লক্ষ টাকায় দফারফার অভিযোগ উঠেছে ওই গৃহবধূর স্বজনদের বিরুদ্ধে। মৃত গৃহবধূর ময়নাতদন্তে ও বাঁধ সাধেন তার স্বজনরা। অবশেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশ হস্তান্তর করে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। ২২ জুলাই (সোমবার) বিকেলে স্বমামীর গৃহে বিষপান করেন শরীফা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর পূর্বে একই ইউনিয়নের ডর বল্লাহাটি গ্রামের আনছার শিকদারের মেয়ে শরীফার সাথে কচুয়া ডাঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীর ঠাকুরের ছেলে রিপন ঠাকুরের বিবাহ হয়। তাদের ঘরে সাড়ে ৬ বছরের মরিয়ম ও ৩ বছর বয়সী মারিয়া নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সাম্প্রতিক শরীফা তার মৃত মাকে স্বপ্নে দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। ঘটনার দিন স্বাভাবিক ভাবেই সাংসারিক কাজ সেরে দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে। অতঃপর স্বামী ও সন্তানেরা ঘুমিয়ে গেলে শরিফা তার ছোট বোনকে ফোনে বলে আমার বাচ্চা দুটোকে তুই দেখিস, মা আমাকে ডাকছে। কিছুক্ষণ পরে জানতে পারবি বলে ফোন কেটে দিয়ে বিষপান করে। মৃতের ছোট বোন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে বাড়ীতে থাকা মিস্ত্রিরা ঘুমন্ত রিপনকে ডেকে তুললে তাৎক্ষণিক শরীফার স্বজনদের বিষয়টি জানিয়ে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রিপন ঠাকুর বলেন, আমার মেয়েরা আমার কাছেই থাকবে, নানা বাড়ী থাকবেনা বলেলও তারা শোনেনি। তবে ছোট মেয়েটা নানা বাড়ী যাবেনা, বাবার কাছে থাকবে বলে কান্নাকাটি করায় আমার কাছে রয়েছে।এছাড়া শশুর বাড়ীর লোকজন আমার বাড়ী ঘর লুট করে স্বর্ণালংকারসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে ব্যপক ক্ষতি করেছেন এবং মিথ্যা মামলার ও হত্যার ভয় দেখিয়ে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেন তারা। এমনকি টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত লাশ দাফন হতে দেয়নি মৃতের স্বজনরা বলে জানান রিপন ঠাকুর। অতঃপর এক লক্ষ টাকা নগদ প্রদান ও ব্যাংক চেকে তিন লক্ষ টাকা লিখে সরকারি ষ্ট্যাম্পে জোর পূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে বলে ব্যাংক চেক ও টাকা ফেরত চান।
প্রতিবেশীরা জানান, শরীফা খুব ভালো মেয়ে ছিল। তবে একটু বদরাগী স্বভাবের ছিল। ঘটনার দিন কোন ঝগড়াঝাটিও তারা শোনেনি। তবে সাম্প্রতিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল শরিফা।
এ দিকে শরীফার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ বিষয়ে ময়নাতদন্তে বাঁধা দেওয়ার বিষয়ে মৃতের পিতা আনছার শিকদার ও চাচা ইয়ার আলী শিকদার বলেন, তারা এ নিয়ে কোন মামলায় যাবেন না। তাই ময়নাতদন্তে বাঁধা দিয়েছেন। এছাড়া ৪ লক্ষ টাকায় মিমাংসার বিষয়টি প্রথমত স্বীকার না করলেও পরবর্তীতে স্থানীয় মেম্বার বোরহান শিকদারের স্বীকারোক্তিতে স্বীকার করেন। তবে বাচ্চাদের ভবিষ্যতের জন্য এ টাকা তারা নিচ্ছেন বলে জানান।