
শিমুল হাসান, নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাতাসী বাজারের একজন ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে মারপিট, চাঁদা দাবী, হুমকি প্রদান ও মালামাল ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নিতে দীর্ঘদিন যাবৎ লোহাগড়া থানা পুলিশ গড়িমসি করে সময় ক্ষেপনের পরে নিরুপায় হয়ে ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী ২ জুলাই নড়াইল বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ভূক্তভোগী ও মামলার সূত্রে জানা যায়, শালনগর ইউনিয়নের বাতাসী বাজারে পার শালনগর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার স্ত্রী সৈয়দা এসমতারা তুলি মধুমতি ইলেকট্রনিক্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। পারশালনগর গ্রামের মৃত আক্কাস মোল্যার ছেলে মোঃ ইউসুফ মোল্যা ওরফে দুখু মোল্যা এবং মোঃ ইউসুফ মোল্যার ছেলে মোঃ হৃদয় মোল্যা তিন মাসে পরিশোধ করবার প্রতিশ্রতি দিয়ে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রিজ, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, কেটলি, টেলিভিশন পণ্য গ্রহণ করেন। তিন বছর পার হলেও উল্লেখিতরা ওই ব্যবসায়ীর টাকা পরিশোধ করেননি। বরং টাকা চাইলে গালিগালাজ হুমকি প্রদান করে।

গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় আসামীরা হঠাৎ মোটরসাইকেল যোগে ওই ইলেকট্রনিক্সের দোকানের সামনে দিয়ে যাবার সময় ওই ব্যবসায়ীর সাথে দেখা হয়ে যায়। ওই সময় পাওনা টাকা চাইলে ব্যবসায়ীকে হুমকি দেয়া হয়। ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করবার প্রাক্কালে মোঃ ইউসুফ মোল্যা ও মোঃ হৃদয় মোল্যা অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে সাথে নিয়ে লোহার রড, সাইজ কাঠসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক ব্যবসায়ীর দোকানের মধ্যে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ব্যবসায়ীকে মারপিটসহ আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ভাংচুর, লুটপাট করে। এসময় তারা চাঁদা দাবি করে ব্যবসায়ীর কাছে। তাদের মারপিটে ওই ব্যবসায়ী মারাত্বক জখম হন। বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে পুলিশের সহযোগিতায় লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় সুস্থ্য হয়ে লোহাগড়া থানায় বারবার ধর্ণা দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। অবশেষে ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত লোহাগড়া নড়াইলে ২ জুলাই মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৯০/২৪(এল)। বিজ্ঞ আদালত মামলাটির তদন্তভার ডিবি নড়াইলের উপর ন্যাস্ত করেছেন।
ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রভাবশালী। তারা আবারো আমার উপর সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিয়েছে। আমি শংকায় দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।